সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স নির্ভরযোগ্য জীবন বীমা সঙ্গী ২০২৬
জীবনের অনিশ্চয়তার মাঝে আর্থিক নিরাপত্তা একটি বড় প্রয়োজন। সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রায়ত্ত জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে এই নিরাপত্তা প্রদান করে আসছে। ২০২৬ সালেও এই সংস্থাটি দেশের অর্থনীতিতে ও সাধারণ মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আসুন, এই বীমা কোম্পানির নানা দিক, এর পলিসি, সুবিধা এবং কেন এটি আপনার জন্যও একটি সঠিক পছন্দ হতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স: প্রতিষ্ঠা ও পটভূমি
১৯৭২ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বীমা খাতকে জাতীয়করণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় জীবন বীমা কর্পোরেশন গঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে জীবন বীমা কর্পোরেশনকে ভেঙে কয়েকটি স্বতন্ত্র কোম্পানিতে রূপান্তরিত করা হয়। সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড সেই পথচলারই একটি ফল। একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ার কারণে এর প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাস অন্য যেকোনো বেসরকারি বীমা কোম্পানির চেয়ে স্বাভাবিকভাবেই বেশি। সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা এবং দীর্ঘদিনের সুনাম এই প্রতিষ্ঠানকে বাজারে একটি বিশেষ স্থান দিয়েছে।
পলিসি ও প্রকারভেদ: কোনটি আপনার জন্য?
প্রতিটি মানুষের আর্থিক চাহিদা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ভিন্ন হয়। এই কথা মাথায় রেখেই সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স বিভিন্ন ধরনের বীমা পলিসি নিয়ে এসেছে। নিচে কয়েকটি প্রধান পলিসি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
ডিজিটাল জীবন বীমা (Digital Jibon Bima)
এটি একটি আধুনিক ও জনপ্রিয় পলিসি। নাম থেকে বোঝা যায়, এখানে পলিসি গ্রহণ, প্রিমিয়াম পরিশোধ এবং দাবি নিষ্পত্তির পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল। গ্রাহকরা খুব সহজেই অনলাইনে পলিসি কিনতে পারেন। এতে করে সময় ও শ্রম উভয়ই বাঁচে। সাধারণত ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ব্যক্তিরা এই পলিসি নিতে পারেন। এটি একটি সঞ্চয়মূলক পলিসি, যেখানে বীমা মেয়াদ শেষে ম্যাচিওরিটি বেনিফিট পাওয়া যায় এবং বীমা মেয়াদের মধ্যে গ্রাহক মৃত্যুবরণ করলে নির্ধারিত অঙ্কের টাকা নমিনিকে দেওয়া হয়।
সঞ্চয়পত্র জীবন বীমা (Sanchaypatra Jibon Bima)
নামটি থেকেই বোঝা যাচ্ছে এটি একটি সঞ্চয়মুখী পলিসি। যারা নিয়মিত সঞ্চয় করতে চান এবং সেই সাথে একটি বীমা কভার চান, তাদের জন্য এটি আদর্শ। এই পলিসির মাধ্যমে বীমা মেয়াদ শেষে একটি নির্দিষ্ট অর্থ পাওয়া যায়। গ্রাহক চাইলে মাসিক, ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক বা বার্ষিক প্রিমিয়াম দিতে পারেন।
অন্তিম মুক্তির জীবন বীমা (Ontim Muktir Jibon Bima)
বাংলাদেশের বীমা বাজারে এটি একটি জনপ্রিয় পলিসি। এই পলিসির বিশেষত্ব হলো, বীমার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কোনো গ্রাহক মৃত্যুবরণ করলে তার নমিনি সম্পূর্ণ বীমার টাকা পেয়ে যান এবং বাকি প্রিমিয়াম দিতে হয় না। অর্থাৎ, মৃত্যুর পর থেকেই বীমাটি প্রিমিয়াম-মুক্ত হয়ে যায়। এটি একটি বিশুদ্ধ জীবন বীমা পলিসি, যা পরিবারের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
এডুকেশন এনডাওমেন্ট পলিসি (Education Endowment Policy)
সন্তানের উচ্চশিক্ষার খরচ আজকাল খুবই ব্যয়বহুল। এই পলিসি সেই চাহিদা মেটানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। পিতা-মাতা তাদের সন্তানের নামে এই পলিসি নিতে পারেন। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে সন্তানের শিক্ষার কাজে এই টাকা ব্যবহার করা যাবে। বীমার মেয়াদের মধ্যে পিতা-মাতার কারো মৃত্যু হলেও বীমা কোম্পানি বাকি প্রিমিয়াম মওকুফ করে দেয় এবং পলিসির টাকা সন্তান পেয়ে থাকে।
সোনালী সন্তান জীবন বীমা (Sonali Shontan Jibon Bima)
এটি সন্তানের জন্য একটি ব্যাপক বীমা সমাধান। এটি শুধু শিক্ষার জন্যই নয়, বরং সন্তানের বড় হওয়া, ক্যারিয়ার গঠন ও বিবাহের জন্যও আর্থিক প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করে। অভিভাবকরা তাদের পছন্দমতো প্রিমিয়ামের পরিমাণ ও মেয়াদ বেছে নিতে পারেন।
গ্রুপ বীমা (Group Insurance)
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের জন্য গ্রুপ বীমা পলিসি নেয়। সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স ব্যাংক, শিল্প প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন সেক্টরের জন্য গ্রুপ বীমা প্রদান করে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা খুব কম প্রিমিয়ামে ভালো বীমা কভার পেয়ে থাকেন।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য
এই প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের জন্য বেশ কিছু সুবিধা নিয়ে এসেছে, যা একে অন্যান্য বীমা কোম্পানি থেকে আলাদা করেছে। নিচে সেগুলো তুলে ধরা হলো:
| বৈশিষ্ট্য / সুবিধা | বর্ণনা |
|---|---|
| রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা | সরকারি মালিকানায় পরিচালিত হওয়ায় বিনিয়োগ ও দাবি পরিশোধে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত। |
| উচ্চ ওয়ারেন্টি রেট | প্রচলিত বীমার তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি লভ্যাংশ (বোনাস) প্রদান করে থাকে। |
| ডিজিটাল সেবা | পলিসি কেনা, প্রিমিয়াম জমা এবং কিছু কিছু দাবি অনলাইনে সম্পন্ন করা যায়, যা সময় সাশ্রয়ী। |
| বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্ক | সারা দেশে অসংখ্য শাখা ও এজেন্ট থাকায় সহজেই পলিসি সংক্রান্ত সেবা পাওয়া যায়। |
| স্বচ্ছতা | পলিসির শর্তাবলি সম্পর্কে গ্রাহকদের কাছে বিশদে জানানো হয় এবং লেনদেনের স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়। |
| ট্যাক্স সুবিধা | বীমা প্রিমিয়ামের উপর আয়কর রেয়াত পাওয়া যায় (সরকারি বিধি মোতাবেক)। |
| লোন সুবিধা | পলিসির বিপরীতে গ্রাহকরা সহজ শর্তে ঋণ নিতে পারেন, যা জরুরি প্রয়োজনে কাজে লাগে। |
কেন সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স বেছে নেবেন?
বাজারে অনেক বীমা কোম্পানি থাকলেও সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স কিছু নির্দিষ্ট কারণে গ্রাহকদের প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠে। নিচে সেগুলো উল্লেখ করা হলো:
- বিশ্বাস ও আস্থা: একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে এর প্রতি মানুষের আস্থা অনেক বেশি। সরকারি প্রতিষ্ঠান বলে পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে সরকারের প্রত্যক্ষ ভূমিকা থাকে, যা গ্রাহকদের মনে নিরাপত্তা জাগায়।
- দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা: প্রতিষ্ঠানটির পেছনে সরকারের সমর্থন থাকায় এটি যেকোনো অর্থনৈতিক মন্দা বা প্রতিকূলতা সহজেই মোকাবেলা করতে পারে।
- সুবিধাজনক প্রিমিয়াম: পলিসিগুলোর প্রিমিয়াম তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী। যে কোনো আয়ের মানুষ তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী একটি পলিসি বেছে নিতে পারেন।
- সহজ দাবি নিষ্পত্তি: অন্যান্য বীমা কোম্পানির তুলনায় দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ এবং দ্রুত। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া আবশ্যক।
- সামাজিক প্রভাব: বীমা শুধু নিজের জন্যই নয়, বরং এটি একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ। বীমা করানোর মাধ্যমে আপনি আপনার পরিবারকে ভবিষ্যতের আর্থিক সংকট থেকে রক্ষা করছেন।
বাস্তব অভিজ্ঞতা: একজন গ্রাহকের গল্প
২০২৩ সালে আমার এক বন্ধু, রাশেদ, তার ছোট ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের “সোনালী সন্তান জীবন বীমা” পলিসি নেন। তার ইচ্ছা ছিল, ছেলে বড় হয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যেতে চাইলে যাতে আর্থিক কোনো বাধা না থাকে। তিনি মাসিক কিস্তিতে প্রিমিয়াম দিতে শুরু করেন। ২০২৫ সালের শেষের দিকে অপ্রত্যাশিতভাবে তিনি একটি সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। চিকিৎসার জন্য প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। তখন তিনি তার পলিসির বিপরীতে ঋণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যে তিনি ঋণ পেয়ে যান, যা তার চিকিৎসার খরচ বহন করতে সহায়তা করে। তিনি এখন সুস্থ আছেন এবং নিয়মিত তার পলিসির প্রিমিয়াম দিচ্ছেন। এই ঘটনা তার কাছে প্রমাণ করেছে যে সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শুধু মৃত্যুর জন্যই নয়, জীবনের নানা প্রতিকূল মুহূর্তেও পাশে থাকতে পারে।
অন্যদিকে, আমার প্রতিবেশী করিম সাহেব ২০১০ সালে সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের “অন্তিম মুক্তির জীবন বীমা” পলিসি নিয়েছিলেন। তিনি নিয়মিত প্রিমিয়াম দিতেন। ২০২৪ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার স্ত্রী সাহারা বেগম বীমা কোম্পানিতে দাবি জানালে সম্পূর্ণ বীমার টাকা মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়ে যায়। এই টাকা দিয়ে তিনি তার মেয়ের বিয়ে এবং ছেলের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পেরেছেন। সাহারা বেগম বলেন, “আমার স্বামী চলে গেছেন, কিন্তু তার সিদ্ধান্তটি আমাদের পরিবারকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়েছে।” এই ধরনের বাস্তব অভিজ্ঞতাই প্রমাণ করে একটি বীমা পলিসি কীভাবে একটি পরিবারের জীবন বদলে দিতে পারে।
প্রিমিয়াম ও ম্যাচিওরিটি সুবিধা
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের পলিসিগুলোর প্রিমিয়াম নির্ধারণ করা হয় পলিসির ধরন, বীমার অঙ্ক এবং মেয়াদের উপর ভিত্তি করে। সাধারণত নিচের টেবিলের মতো করে প্রিমিয়াম কাঠামো বোঝা যায়:
| পলিসির নাম | নূন্যতম বীমা অঙ্ক | মেয়াদ | প্রিমিয়াম (মাসিক উদাহরণ) |
|---|---|---|---|
| ডিজিটাল জীবন বীমা | ৫০,০০০ টাকা | ১০-২০ বছর | প্রতি ১ লক্ষ টাকায় প্রায় ১৫০-২৫০ টাকা |
| অন্তিম মুক্তি জীবন বীমা | ১,০০,০০০ টাকা | ৫-১৫ বছর | প্রতি ১ লক্ষ টাকায় প্রায় ২০০-৩০০ টাকা |
| সন্তান শিক্ষা পলিসি | ১,০০,০০০ টাকা | ১০-২১ বছর | প্রতি ১ লক্ষ টাকায় প্রায় ১০০-২০০ টাকা |
দ্রষ্টব্য: এই প্রিমিয়াম একটি মোটামুটি ধারণা মাত্র। সঠিক প্রিমিয়াম জানতে কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা নিকটস্থ শাখা থেকে যোগাযোগ করুন।
ম্যাচিওরিটির সময় গ্রাহককে বীমার অঙ্কের পাশাপাশি জমাকৃত বোনাস এবং অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়। যেহেতু এটি একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, তাই বোনাসের পরিমাণ অন্যান্য বীমার তুলনায় বেশ ভালো হয়ে থাকে। অনেক পলিসিতে ম্যাচিওরিটি বেনিফিটের ট্যাক্স অব্যাহতি দেওয়া হয়, যা গ্রাহকের জন্য আরও লাভজনক।
দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া
বীমা কোম্পানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো দাবি নিষ্পত্তি। সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের দাবি নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ। নিচে ধাপগুলো উল্লেখ করা হলো:
- প্রথম ধাপ: গ্রাহক বা নমিনি মৃত্যুদাবির ক্ষেত্রে মৃত্যুসনদ, পলিসি ডকুমেন্ট, পরিচয়পত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করবেন।
- দ্বিতীয় ধাপ: সব কাগজপত্র নিয়ে নিকটস্থ সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের শাখায় যোগাযোগ করবেন।
- তৃতীয় ধাপ: শাখায় একটি দাবি ফর্ম পূরণ করে জমা দেবেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে একটি রিসিট দেওয়া হবে।
- চতুর্থ ধাপ: কোম্পানি কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত কোনো তথ্য চাওয়া হতে পারে।
- পঞ্চম ধাপ: যাচাই শেষে গ্রাহককে বীমার টাকা ব্যাংক চেক বা ডিজিটাল মাধ্যমে প্রদান করা হয়। সাধারণত এই প্রক্রিয়াটি ৭-১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে থাকে।
ম্যাচিওরিটি দাবির ক্ষেত্রে পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ, পলিসির কাগজ, পরিচয়পত্র এবং ব্যাংকের পাসবুক নিয়ে শাখায় যোগাযোগ করতে হয়। সেখান থেকে সহজেই টাকা উত্তোলন করা যায়।
বর্তমান (২০২৬) অবস্থান ও ভবিষ্যৎ
২০২৬ সালে সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারে আরও এগিয়ে গেছে। মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এখন গ্রাহকরা তাদের প্রিমিয়াম জমা দিতে পারেন, পলিসির অবস্থা দেখতে পারেন এবং কিছু কিছু সেবা পেতে পারেন। কোম্পানিটি নতুন নতুন পলিসি এবং সেবা চালু করছে যা গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করবে। বীমা খাতে প্রতিযোগিতা বাড়লেও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের স্থান অটুট রয়েছে। তবে ভবিষ্যতে আরও উন্নত সেবা ও দ্রুত দাবি নিষ্পত্তির জন্য কোম্পানিটিকে আরও আধুনিকায়নের দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
গ্রাহক সেবা ও যোগাযোগের মাধ্যম
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের গ্রাহক সেবা সাধারণত ভালো। সারা দেশে তাদের শাখা থাকায় সহজেই যোগাযোগ করা যায়। এছাড়া তাদের একটি হটলাইন নম্বর এবং ইমেইল ঠিকানা রয়েছে, যার মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের সমস্যা বা জানার বিষয়গুলি জানাতে পারেন। অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সব ধরনের পলিসি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায় এবং অনলাইন পলিসিও কেনা যায়। ২০২৬ সাল থেকে তারা কিছু শাখায় একই দিনে দাবি নিষ্পত্তির সুবিধাও চালু করার পরিকল্পনা করছে বলে জানা যায়, যা গ্রাহকদের জন্য খুবই স্বস্তিদায়ক হবে।
সতর্কতা ও পরামর্শ
যেকোনো বীমা পলিসি নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি:
- পলিসির শর্ত বুঝে নিন: পলিসি নেওয়ার আগে সব শর্তাবলি ভালোভাবে পড়ে নিন। প্রয়োজনে একজন বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিন।
- প্রিমিয়াম পরিশোধে নিয়মিত থাকুন: বীমা পলিসির সুবিধা পেতে হলে প্রিমিয়াম নিয়মিত পরিশোধ করতে হবে। নইলে পলিসি ল্যাপস হয়ে যেতে পারে।
- নমিনি নির্ধারণ করুন: পলিসির নমিনি ঠিক করে রাখুন, যাতে আপনার অকালমৃত্যুর পর আপনার পরিবার সুবিধা পায়।
- প্রতারণা থেকে সাবধান: যেকোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানের নাম করে প্রতারণা চালাতে পারে। সবসময় অফিসিয়াল শাখা বা এজেন্টের মাধ্যমেই পলিসি কিনুন।
- কাগজপত্র নিরাপদে রাখুন: পলিসি ডকুমেন্ট এবং প্রিমিয়ামের রশিদ সবসময় নিরাপদে রাখুন।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স আপনার জীবন ও পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ সহায়ক হতে পারে। তবে সঠিক পলিসি বাছাই, নিয়মিত প্রিমিয়াম প্রদান এবং শর্তাবলি বুঝে চলার মাধ্যমেই আপনি এর সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে পারেন।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স কি একটি সরকারি কোম্পানি?
হ্যাঁ, সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড একটি সম্পূর্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। তাই এর প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাস অত্যন্ত উচ্চ।
একটি পলিসি নিতে কী কী ডকুমেন্ট লাগে?
পলিসি নেওয়ার জন্য সাধারণত জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্টের কপি, দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং প্রয়োজনে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য প্রয়োজন হয়। ডিজিটাল পলিসির ক্ষেত্রে অনলাইনে সহজেই এই কাগজপত্র জমা দেওয়া যায়।
বীমা দাবি পেতে কতদিন সময় লাগে?
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকলে সাধারণত মৃত্যুদাবি নিষ্পত্তি হতে ৭-১৫ কার্যদিবস সময় লাগে। ম্যাচিওরিটি দাবির ক্ষেত্রে সময় কম লাগে, প্রায় ৫-৭ কার্যদিবস। তবে জটিল ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগতে পারে।
পলিসির প্রিমিয়াম না দিলে কী হয়?
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রিমিয়াম পরিশোধ না করলে পলিসিটি ল্যাপস (অকার্যকর) হয়ে যায়। তবে কিছু পলিসিতে একটি গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়, যার মধ্যে প্রিমিয়াম জমা দিলে পলিসি সক্রিয় থাকে। ল্যাপস হয়ে গেলে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পুনরায় সক্রিয় করার সুযোগ থাকে।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের পলিসিতে ট্যাক্স বেনিফিট পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বীমা প্রিমিয়ামের জন্য আয়কর রেয়াত পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত প্রিমিয়াম প্রদান করলে তা করযোগ্য আয় থেকে বাদ যায়। এছাড়া ম্যাচিওরিটি বেনিফিটের উপরও কিছু ক্ষেত্রে ট্যাক্স ছাড় রয়েছে।
প্রিমিয়াম অনলাইনে দেওয়া যায় কি?
হ্যাঁ, সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং কিছু নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে প্রিমিয়াম জমা দেওয়া যায়। এছাড়া নিকটস্থ শাখাতেও নগদ বা ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দেওয়া যায়।
পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই টাকা তোলা যায় কি?
পলিসির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে টাকা তোলা সাধারণত সম্ভব নয়। তবে জরুরি প্রয়োজনে পলিসির বিপরীতে ঋণ নেওয়া যায়। কিছু পলিসিতে নির্দিষ্ট সময় পর ‘সারেন্ডার’ করার সুযোগ থাকে, কিন্তু সেক্ষেত্রে পুরো টাকার চেয়ে কম পাওয়া যায়।