সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা সমূহ ২০২৬। নিকটস্থ সেবা কেন্দ্র
বাংলাদেশের জীবন বীমা খাতে দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত নাম সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। দেশের প্রতিটি প্রান্তে গ্রাহকদের সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কোম্পানিটির শাখা নেটওয়ার্ক অত্যন্ত শক্তিশালী। সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা সমূহ গ্রাহকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে জীবন বীমার আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য সেবা। ২০২৬ সালে এসেও এই কোম্পানির শাখাগুলো ডিজিটাল ও ব্যক্তিগত উভয় ধরনের সেবায় সমৃদ্ধ, যা গ্রাহকদের জন্য একটি বড় সুবিধা। আপনি যদি একজন সম্ভাব্য গ্রাহক হন অথবা ইতিমধ্যেই সোনালী লাইফের পলিসিধারী হন, তাহলে আপনার নিকটস্থ শাখাটি কোথায় অবস্থিত এবং কী কী সেবা পাওয়া যায় তা জানা অত্যন্ত জরুরি।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের শাখা নেটওয়ার্কের গুরুত্ব
একটি বীমা কোম্পানির শক্তি তার শাখা নেটওয়ার্কের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে। সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড (SLIC) দেশের জাতীয়করণকৃত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর একটি অন্যতম প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। এর শাখাগুলো শুধু পলিসি বিক্রি নয়, বরং গ্রাহক সেবার কেন্দ্রবিন্দু। গ্রাহকেরা প্রিমিয়াম জমা দেওয়া, পলিসি সম্পর্কিত তথ্য জানা, দাবি নিষ্পত্তি (claim settlement) এবং অন্যান্য সেবা সরাসরি শাখা থেকে নিতে পারেন। দেশের প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপজেলায় সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা সমূহ অবস্থিত।
ঢাকা বিভাগে সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের প্রধান শাখা
রাজধানী ঢাকা এবং এর পার্শ্ববর্তী এলাকায় সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের সবচেয়ে বেশি শাখা রয়েছে। এখান থেকে মোট বীমা ব্যবসার একটি বড় অংশ পরিচালিত হয়। নিচে ঢাকা বিভাগের উল্লেখযোগ্য শাখাগুলোর তালিকা দেওয়া হলো:
| শাখার নাম | ঠিকানা (সাধারণ) | সেবার ধরন |
|---|---|---|
| সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স প্রধান শাখা (মেট্রো) | মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা | সম্পূর্ণ বীমা পরিষেবা, দাবি নিষ্পত্তি |
| সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স গুলশান শাখা | গুলশান-১, সার্কেল এলাকা | ব্যক্তিগত ও গ্রুপ বীমা, প্রিমিয়াম |
| সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স মিরপুর শাখা | মিরপুর-১, পাইওনিয়ার রোড | সাধারণ বীমা, স্বাস্থ্য বীমা |
| সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স উত্তরা শাখা | উত্তরা মডেল টাউন, সেক্টর-৪ | শিক্ষা বীমা, জমা বীমা |
| সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স নারায়ণগঞ্জ শাখা | নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন | শিল্প বীমা, সাধারণ সেবা |
এই শাখাগুলো ছাড়াও ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলা যেমন গাজীপুর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর ইত্যাদি জেলায় সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা সমূহ গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে। বিশেষ করে গাজীপুরের ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে কোম্পানির একটি বড় শাখা রয়েছে, যা শিল্প শ্রমিক ও উদ্যোক্তাদের জন্য সুবিধাজনক।
ঢাকার বাইরে সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের গুরুত্বপূর্ণ শাখা
শুধু ঢাকা নয়, দেশের অন্য বিভাগেও কোম্পানির শাখা নেটওয়ার্ক বিস্তৃত। চট্টগ্রাম বিভাগে কোম্পানির উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। বন্দরনগরী চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও সিলেট বিভাগের সিলেট শহরে সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের শক্তিশালী শাখা রয়েছে। রাজশাহী ও খুলনা বিভাগেও একাধিক শাখা গ্রাহক সেবায় নিয়োজিত। বরিশাল ও রংপুর বিভাগেও সম্প্রতি শাখা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে, বিশেষ করে পল্লী অঞ্চলের মানুষের কাছে বীমা সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য।
কীভাবে আপনার নিকটস্থ সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা খুঁজে পাবেন
আপনি যদি সরাসরি জানতে চান সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা সমূহের মধ্যে আপনার এলাকায় কোনটি রয়েছে, তাহলে কয়েকটি সহজ উপায় অনুসরণ করতে পারেন। প্রথমত, কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (sonalilife.com) ভিজিট করুন। সেখানে “শাখা নেটওয়ার্ক” অথবা “ব্রাঞ্চ লোকেটর” অপশনটি খুঁজে বের করুন। দ্বিতীয়ত, আপনার স্মার্টফোনে জিপিএস ব্যবহার করে গুগল ম্যাপে “Sonali Life Insurance branch near me” লিখে সার্চ করুন। তৃতীয়ত, কোম্পানির গ্রাহক সেবা হটলাইনে ফোন করে আপনার অবস্থান জানিয়ে নিকটস্থ শাখার ঠিকানা ও যোগাযোগের নম্বর জেনে নিতে পারেন।
শাখায় গিয়ে কী কী সেবা পাওয়া যাবে
একটি শাখায় গেলে আপনি নিম্নলিখিত সেবাগুলো পাবেন:
- নতুন পলিসি খোলা: বিভিন্ন ধরনের বীমা পলিসি যেমন জমা বীমা, শিক্ষা বীমা, স্বাস্থ্য বীমা, ডিপিএস (Deposit Pension Scheme) ইত্যাদি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ও খুলতে পারবেন।
- প্রিমিয়াম জমা দেওয়া: নগদ বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে আপনার মাসিক বা বার্ষিক প্রিমিয়াম জমা দিতে পারবেন।
- পলিসি সংক্রান্ত তথ্য: আপনার পলিসির বর্তমান অবস্থা, ম্যাচিউরিটি ডেট, বোনাস ইত্যাদি জানতে পারবেন।
- দাবি নিষ্পত্তি: মৃত্যু দাবি বা ম্যাচিউরিটি দাবি সংক্রান্ত কাগজপত্র জমা দিতে পারবেন এবং প্রক্রিয়ার অগ্রগতি জানতে পারবেন।
- লোন বা ঋণ: প্রয়োজনে আপনার পলিসির বিপরীতে লোন নেওয়ার ব্যবস্থা শাখা থেকেই করতে পারেন।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা সমূহের ডিজিটাল সেবা
বর্তমান সময়ে ডিজিটাল মাধ্যমেও শাখাগুলো সক্রিয়। ২০২৬ সালে এসে প্রায় প্রতিটি শাখায় ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু হয়েছে। আপনি অনলাইনে প্রিমিয়াম জমা দিতে পারেন, কিন্তু কেনো সমস্যা হলে সরাসরি শাখায় যোগাযোগ করা ভালো। শাখাগুলোতে একজন করে “ডিজিটাল সার্ভিস অফিসার” নিয়োগ দেওয়া হয়েছে যিনি গ্রাহকদের অনলাইন পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারে সাহায্য করেন। এই উদ্যোগ সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা সমূহকে আরও গ্রাহকবান্ধব করে তুলেছে।
শাখার মাধ্যমে গ্রাহক সুরক্ষা ও অভিযোগ সমাধান
বীমা একটি দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক প্রতিশ্রুতি। তাই গ্রাহকের যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য শাখাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের প্রতিটি শাখায় একজন “গ্রাহক সেবা ব্যবস্থাপক” (Customer Service Manager) থাকেন। তিনি পলিসি সংক্রান্ত অভিযোগ শোনেন এবং শাখা পর্যায়েই সমাধানের চেষ্টা করেন। দ্রুত দাবি নিষ্পত্তি নিশ্চিত করার জন্য শাখাগুলোকে নির্দিষ্ট সময়সীমা মেনে চলতে হয়। বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়, সঠিক কাগজপত্র থাকলে অধিকাংশ দাবি ৩০-৪৫ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি হয়ে যায়।
শাখা নির্বাচনের সময় কি কি বিষয় খেয়াল রাখবেন
আপনার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা নির্বাচন করতে নিচের বিষয়গুলো মাথায় রাখুন:
- ভৌগোলিক অবস্থান: আপনার বাসা বা অফিসের কাছাকাছি কোনো শাখা আছে কিনা দেখুন। দূরের শাখায় যেতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি হবে।
- সেবার সময়: বেশিরভাগ শাখা সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে কোন কোন শাখায় শুক্রবারও নির্দিষ্ট সময়ে সেবা চালু থাকে, তা জেনে নিন।
- ফোন নম্বর: শাখার সরাসরি ফোন নম্বর সংগ্রহ করে রাখুন। জরুরি প্রয়োজনে আগে ফোন করে আসতে পারেন।
- অভিজ্ঞতা: পুরনো শাখাগুলোতে সাধারণত বেশি অভিজ্ঞ কর্মী থাকেন। নতুন শাখায় কর্মীরা প্রশিক্ষিত হলেও সময় নিতে পারে।
শাখার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের বীমা পলিসি
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা সমূহ থেকে আপনি নিম্নলিখিত জনপ্রিয় পলিসিগুলো কিনতে পারেন:
- সোনালী জীবন বীমা (এন্ডোমেন্ট প্ল্যান): এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় পলিসি, যা মেয়াদ শেষে বা মৃত্যুতে সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দেয়।
- সোনালী শিক্ষা বীমা: সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য অর্থ সঞ্চয়ের একটি বীমা।
- সোনালী স্বাস্থ্য বীমা: হাসপাতালে ভর্তি হলে চিকিৎসা খরচের সুরক্ষা দেয়।
- সোনালী পেনশন স্কিম: অবসর জীবনের জন্য মাসিক আয়ের নিশ্চয়তা দেয়।
- গ্রুপ বীমা: প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য কোম্পানির পক্ষ থেকে বীমা করা হয়।
প্রতিটি পলিসির সুবিধা ও প্রিমিয়াম হার শাখায় গিয়ে বিস্তারিত জানতে পারবেন। শাখার প্রতিনিধিরা আপনাকে সঠিক পলিসি বেছে নিতে গাইড করবেন।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা সমূহের উদ্বোধনী সময় ও ছুটির দিন
সাধারণত কোম্পানির সব শাখা রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চালু থাকে। শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটির দিন। তবে কিছু ব্যস্ত শাখা, যেমন মতিঝিল ও গুলশান শাখা, শনিবারও অর্ধদিবস খোলা থাকে। দেশের অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনেও শাখাগুলো বন্ধ থাকে। আপনি যদি কোনো ছুটির দিনে সেবা নিতে চান, তবে আগে থেকেই ওয়েবসাইট বা ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নিন।
শাখায় যোগাযোগের সময় কী কী নিয়ে যাবেন
প্রথমবার কোনো সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখায় গেলে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট সাইজের ছবি (২-৩ কপি), এবং মোবাইল নম্বর নিয়ে যান। যদি আপনি পলিসি নিতে চান, তাহলে আপনার আয়ের প্রমাণপত্র (স্যালারি সার্টিফিকেট বা ট্যাক্স রিটার্ন) সাথে রাখা ভালো। পলিসি সংক্রান্ত কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে পলিসি ডকুমেন্ট, প্রিমিয়াম জমার রসিদ এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কাগজপত্র সাথে নিয়ে যান।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের শাখা সম্প্রসারণ পরিকল্পনা
২০২৬ সালে সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড দেশের প্রায় ৪০০টি উপজেলায় সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা সমূহ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে নতুন শাখা স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। এই সম্প্রসারণের ফলে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী সহজেই বীমা সেবা পাবে। কোম্পানি মনে করে, প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শাখা থাকলে গ্রাহকের আস্থা আরও বাড়বে।
শাখার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের সম্পৃক্তি
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের শাখাগুলোতে বর্তমানে তরুণ প্রতিনিধিদের সংখ্যা বাড়ছে। তারা ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে। শাখা থেকে সরাসরি তরুণ গ্রাহকদের জন্য বিশেষ বীমা প্যাকেজ যেমন “শিক্ষার্থী বীমা” ও “নতুন দিগন্ত বীমা” প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে করে সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা সমূহ শুধু বয়স্ক নয়, তরুণ প্রজন্মের কাছেও জনপ্রিয় হচ্ছে।
শাখা থেকে বীমা দাবি করার প্রক্রিয়া
দাবি নিষ্পত্তি বীমা কোম্পানির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেবা। সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের যেকোনো শাখায় গিয়ে দাবি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ফর্ম সংগ্রহ করতে পারেন। তারপর নির্ধারিত কাগজপত্র (যেমন মৃত্যু সনদ, পলিসি ডকুমেন্ট, পরিচয়পত্র ইত্যাদির সত্যায়িত কপি) জমা দিতে হবে। শাখার একজন কর্মকর্তা আপনার দাবি প্রক্রিয়া দেখভাল করবেন। সাধারণত ৭-১০ কার্যদিবসের মধ্যেই প্রাথমিক যাচাই সম্পন্ন হয়। দাবি নিষ্পত্তির সময় শাখার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই আপনার শাখার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখুন।
শাখার মাধ্যমে প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার সুবিধা
অনেক গ্রাহক এখনও অনলাইনের চেয়ে সরাসরি শাখায় গিয়ে প্রিমিয়াম জমা দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। শাখায় গেলে আপনি নগদ বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে প্রিমিয়াম জমা দিতে পারেন এবং সঙ্গে সঙ্গে রসিদ পেয়ে যান। এই রসিদটি আপনার পলিসির আইনি প্রমাণ হিসেবে কাজ করে। অনলাইনে জমা দিলে যদি কোনো জটিলতা হয়, তাহলে শাখায় যোগাযোগ করে সমাধান করা যায়। সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা সমূহ এই ব্যাপারে গ্রাহকদের পুরোপুরি সহায়তা করে।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা ও অন্যান্য বীমা কোম্পানির তুলনা
বাংলাদেশে বেসরকারি ও রাষ্ট্রায়ত্ত অনেক বীমা কোম্পানি থাকলেও সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান রয়েছে। এর শাখা নেটওয়ার্ক অন্যান্য কোম্পানির চেয়ে বেশি বিস্তৃত, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়। সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা সমূহের মাধ্যমে আপনি সরাসরি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকিং নেটওয়ার্কের সুবিধা পেতে পারেন। প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার জন্য আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে, কিছু বেসরকারি কোম্পানির শাখা সীমিত। গ্রাহক সেবার মানেও সোনালী লাইফের শাখাগুলো প্রশংসিত।
শাখায় গ্রাহকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা
বাস্তব ঘটনা থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের একটি শাখায় একজন পলিসিধারী ২ বছর আগে পলিসি করেছেন। সম্প্রতি তিনি তার ম্যাচিউরিটি টাকা পেতে শাখায় যান। শাখার কর্মকর্তা তার সব কাগজপত্র যাচাই করে মাত্র ২৫ দিনের মধ্যে চেক হস্তান্তর করেন। এমন অভিজ্ঞতা অনেক গ্রাহকের রয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রিতারও খবর পাওয়া যায়। কোম্পানি এই সমস্যা সমাধানে শাখাগুলোতে নতুন সফটওয়্যার ইনস্টল করছে, যা ২০২৬ সালের শেষে সম্পন্ন হবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের শাখা সমূহের তালিকা কোথায় পাব?
আপনি কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট sonalilife.com-এ গিয়ে “ব্রাঞ্চ নেটওয়ার্ক” অথবা “শাখা সমূহ” অপশনে ক্লিক করে সম্পূর্ণ তালিকা দেখতে পারেন। এছাড়াও গুগল ম্যাপে সার্চ করে আপনার নিকটস্থ শাখার ঠিকানা ও ফোন নম্বর পাবেন।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের শাখা সমূহে কি সপ্তাহের সবদিন সেবা পাওয়া যায়?
সাধারণত রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সব শাখা খোলা থাকে। শুক্রবার ও শনিবার সরকারি ছুটি। তবে কিছু ব্যস্ত শাখা নির্দিষ্ট সময়ে খোলা থাকতে পারে। সেবা নিতে আসার আগে ফোন করে নিশ্চিত হয়ে নিন।
নতুন পলিসি খুলতে কি সরাসরি যেকোনো শাখায় যাওয়া যাবে?
হ্যাঁ, দেশের যেকোনো সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা সমূহ থেকে আপনি নতুন পলিসি খুলতে পারেন। আপনার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (জাতীয় পরিচয়পত্র, ছবি ও মোবাইল নম্বর) নিয়ে শাখায় যোগাযোগ করুন। শাখার প্রতিনিধি আপনাকে উপযুক্ত পলিসি বেছে নিতে সাহায্য করবেন।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের দাবি নিষ্পত্তি করতে কত সময় লাগে?
সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ কাগজপত্র জমা দিলে সাধারণত ৩০-৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে দাবি নিষ্পত্তি হয়ে যায়। তবে জটিলতার ক্ষেত্রে সময় বাড়তে পারে। শাখার দাবি কর্মকর্তা আপনাকে প্রতিটি ধাপে জানাবেন।
ঢাকার বাইরে কোন জেলায় সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের শাখা আছে?
দেশের প্রায় সব বিভাগ এবং গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখা সমূহ রয়েছে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর, ময়মনসিংহ বিভাগের প্রধান জেলাগুলোতে শাখা আছে। উপজেলা পর্যায়েও ধীরে ধীরে শাখা সম্প্রসারণ হচ্ছে।
শাখায় প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার জন্য কি অনলাইন পেমেন্ট সুবিধা আছে?
শাখায় এসে নগদ বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে প্রিমিয়াম জমা দেওয়া যায়। এছাড়াও অনেক শাখায় ডিজিটাল পেমেন্ট টার্মিনাল আছে, যার মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, রকেট) বা কার্ড ব্যবহার করে পেমেন্ট করা যায়। অনলাইন পেমেন্টের জন্যও সুবিধা চালু আছে।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের শাখা থেকে কি পলিসির বিপরীতে লোন নেওয়া যায়?
হ্যাঁ, আপনার পলিসির বিপরীতে লোন নেওয়ার জন্য নিকটস্থ সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স শাখায় যোগাযোগ করতে পারেন। পলিসির সঞ্চিত অর্থের ওপর ভিত্তি করে লোন দেওয়া হয়। লোনের জন্য নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে।