সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স ডিপিএস ২০২৬। নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য নির্ভরযোগ্য বিনিয়োগ
বর্তমানে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রতিটি ব্যক্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি চাকরি, ব্যাংকে জমানো টাকা বা অন্য কোনো স্বল্পমেয়াদী সঞ্চয় ভবিষ্যতের বড় চাহিদা মেটাতে প্রায়ই অপর্যাপ্ত হয়। এই প্রেক্ষাপটে একটি মিশ্র বিনিয়োগ প্রকল্প হিসেবে সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স ডিপিএস (Deposit Pension Scheme) বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এটি শুধু একটি বীমা নয়, বরং একটি সঞ্চয় পরিকল্পনা, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি বড় অঙ্কের পুঁজি জমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত ছোট ছোট কিস্তি পরিশোধের মাধ্যমে ভবিষ্যতে একটি নির্দিষ্ট পেনশন বা একক অর্থ পাওয়ার নিশ্চয়তা দেয় এই প্রকল্পটি।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স ডিপিএস কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড বাংলাদেশের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত বীমা প্রতিষ্ঠান। তাদের ডিপিএস বা ডিপোজিট পেনশন স্কিম হলো একটি নমনীয় সঞ্চয়–বীমা হাইব্রিড পণ্য। এই স্কিমের অধীনে একজন গ্রাহক নির্দিষ্ট সময় (যেমন ১০, ১৫ বা ২০ বছর) ধরে নিয়মিত প্রিমিয়াম জমা দেন। মেয়াদ শেষে তিনি তার জমানো টাকার পাশাপাশি মুনাফা বা বোনাস পান। অনেকেই একে ‘পেনশন’ নামে চিনলেও এটি আসলে একটি এককালীন উত্তোলনযোগ্য সঞ্চয় প্রকল্প, যা ভবিষ্যতে একটি বড় অঙ্কের টাকা জমাতে বিশেষভাবে সহায়ক।
এই প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ কেন? কারণ এটি জোর করে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলে। অনেকের কাছেই মাস শেষে টাকা জমানো কঠিন হয়; কিন্তু একটি ডিপিএস পলিসি আপনাকে বাধ্য করে নিয়মিত টাকা জমা দিতে। অন্যদিকে, এটি একটি জীবনবীমা সুরক্ষাও প্রদান করে। পলিসি ধারকের অকাল মৃত্যু হলে তার পরিবার সম্পূর্ণ পলিসির টাকা পেয়ে থাকে, যা অন্যান্য সাধারণ ব্যাংক সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে নেই। বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায়, যখন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন, তখন এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় একটি অভয়ারণ্যের মতো কাজ করে।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স ডিপিএস এর বৈশিষ্ট্য এবং সুবিধাসমূহ
একটি বিনিয়োগ পণ্য বাছাই করার আগে তার বৈশিষ্ট্য এবং সুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা জরুরি। সোনালী লাইফের ডিপিএস স্কিমের কিছু উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য নিচে তুলে ধরা হলো:
- নমনীয় মেয়াদকাল: গ্রাহকের সামর্থ্য এবং চাহিদা অনুযায়ী পলিসির মেয়াদ নির্বাচন করা যায়। সাধারণত ৫ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত মেয়াদ নির্ধারণের সুযোগ থাকে।
- নমনীয় কিস্তির পরিমাণ: মাসিক, ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক বা বার্ষিক কিস্তি দেওয়ার সুবিধা রয়েছে। কিস্তির পরিমাণও নিজের আয় অনুযায়ী ঠিক করা যায় (সর্বনিম্ন একটি সীমা বেঁধে দেওয়া থাকে)।
- লাভের অংশ (বোনাস): জমাকৃত অর্থের উপর কোম্পানি একটি নির্দিষ্ট হারে বোনাস ঘোষণা করে, যা ম্যাচিউরিটির সময় মূল টাকার সাথে যোগ হয়। সরকারি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় বোনাসের হার সাধারণত স্থিতিশীল এবং নির্ভরযোগ্য হয়।
- আয়কর সুবিধা: বার্ষিক প্রিমিয়ামের একটি অংশ আয়কর থেকে ছাড় পাওয়ার যোগ্য (বর্তমান আয়কর আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৫০০,০০০ টাকা পর্যন্ত ছাড়ের সুবিধা রয়েছে)। এটি কর পরিকল্পনার জন্য একটি আকর্ষণীয় দিক।
- লোন সুবিধা: পলিসির কিছু অংশের বিপরীতে জরুরি প্রয়োজনে লোন নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই লোনের সুদের হার অনেক ক্ষেত্রে ব্যাংকের ব্যক্তিগত লোনের চেয়ে কম।
- আংশিক প্রত্যাহার: নির্দিষ্ট সময় পর কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে (যেমন সন্তানের উচ্চশিক্ষা বা চিকিৎসার প্রয়োজন) জমানো টাকার একটি অংশ তোলার নিয়ম রয়েছে।
- জীবনবীমা সুরক্ষা: পলিসি চলাকালে পলিসি ধারক মারা গেলে, তার নামধারী ব্যক্তি সম্পূর্ণ অঙ্কের টাকা পাবেন, এমনকি যদি মাত্র একটি কিস্তি দেওয়া থাকে তবুও।
কেন সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স ডিপিএস বেছে নেবেন? (বাজারজাতকরণ নয়, বাস্তব বিশ্লেষণ)
বাজারে অনেক বেসরকারি বীমা ও ব্যাংকের পেনশন প্রকল্প থাকলেও সোনালী লাইফের এই স্কিমটির কিছু নিজস্ব শক্তি রয়েছে। একজন সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে বিভিন্ন গ্রাহকের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ‘গ্যারান্টি’—যেহেতু এটি একটি সম্পূর্ণ সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানি, তাই গ্রাহকের অর্থ হারানোর ঝুঁকি প্রায় শূন্য।
- প্রথমত, বেসরকারি বীমার চেয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বোনাসের হার বছরের পর বছর ধরে তুলনামূলকভাবে কম ওঠানামা করে। আপনার অর্থ হঠাৎ মন্দাবস্থায় পড়ে বিপদগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।
- দ্বিতীয়ত, কিস্তি জমা দেওয়ার সময় কোনো জটিলতা নেই। গ্রাহক চাইলে যে কোনো শাখা, অনলাইন ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও প্রিমিয়াম জমা দিতে পারেন। এখানে বেসরকারি কোম্পানির মতো অতিরিক্ত চাপ বা অপেক্ষা করতে হয় না।
- তৃতীয়ত, ম্যাচিউরিটির পর টাকা তোলার প্রক্রিয়াটি তুলনামূলকভাবে সহজ। কাগজপত্র ঠিক থাকলে ৭-১০ কার্যদিবসের মধ্যে চেক বা ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা হাতে পেয়ে যান গ্রাহকরা।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স ডিপিএস-এ কারা আবেদন করতে পারবেন?
এই বীমা প্রকল্পটি সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত। নিচের ব্যক্তিরা আবেদন করতে পারেন:
- বাংলাদেশের নাগরিক: দেশের যে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক আবেদন করতে পারেন।
- প্রবাসী বাংলাদেশি: দেশের বাইরে থাকা বাংলাদেশিরাও এই স্কিমে অংশ নিতে পারেন।
- যৌথ আবেদন: স্বামী-স্ত্রী বা নিকটাত্মীয় একসঙ্গে যৌথভাবে পলিসি নিতে পারেন।
- শিশুদের জন্য: পিতামাতা তাদের সন্তানের নামে, নিজেরাই পলিসি ধারক হয়ে এই সঞ্চয় প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে পারেন।
আবেদন প্রক্রিয়া: সহজ ধাপে নির্দেশনা
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স ডিপিএস-এর জন্য আবেদন করা বেশ সহজ। আমি নিজে একজন খবরদাতা হিসেবে কিছু বন্ধুকে এতে সাহায্য করেছি। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলেই আপনি পলিসিটি পেতে পারেন:
- নিকটস্থ শাখায় যোগাযোগ: প্রথমে আপনার এলাকার সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্সের যে কোনো শাখা অফিসে যান। অথবা তাদের ওয়েবসাইট থেকে ফর্ম ডাউনলোড করতে পারেন।
- ফর্ম পূরণ: ডিপিএস ফর্মে আপনার নাম, ঠিকানা, পেশা, আয় এবং মনোনীত ব্যক্তির তথ্য দিন। আপনি কত বছর মেয়াদ ও কত টাকা মাসিক কিস্তি দিতে চান তা উল্লেখ করুন।
- জমা দেওয়া: পূরণকৃত ফর্মের সাথে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, ছবি) জমা দিন। প্রথম কিস্তি নগদে বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমেও দিতে হবে।
- পলিসি ইস্যু: আবেদন জমা দেওয়ার পর কোম্পানি এটি যাচাই করে ৭-১৪ কার্যদিবসের মধ্যে আপনাকে পলিসি ডকুমেন্ট ইস্যু করবে। চুক্তির একটি কপি আপনার কাছে থাকবে।
- নিয়মিত কিস্তি: নির্ধারিত তারিখে নিয়মিত কিস্তি পরিশোধ করা শুরু করুন। অনলাইন, ব্যাংক ডেবিট অর্ডার বা সরাসরি অফিসে গিয়ে জমা দিতে পারবেন।
ম্যাচিউরিটি পেআউট কত টাকা পাবেন এবং কখন?
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স ডিপিএস-এ বিনিয়োগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ম্যাচিউরিটি পেআউট। ধরা যাক, আপনি ১০ বছরের জন্য মাসিক ২০০০ টাকা জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। পুরো মেয়াদে আপনি মোট জমা দেবেন (২০০০×১২×১০) = ২,৪০,০০০ টাকা। এর সাথে কোম্পানি যে বোনাস ঘোষণা করে (সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতি বছর গড়ে ৭-১০% বোনাস দেওয়ার রীতি আছে) সেটি যোগ হয়।
উদাহরণস্বরূপ, যদি বোনাসের হার ৮% ধরা হয়, তাহলে আপনার বোনাস হবে মোট জমাকৃত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ (প্রায় ১,৯২,০০০ টাকা থেকে ২,৪০,০০০ টাকার মধ্যে)। সব মিলিয়ে আপনি মোট ৪,৩২,০০০ টাকা থেকে ৪,৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত পেতে পারেন। এটি একটি আনুমানিক হিসাব; প্রকৃত বোনাস কোম্পানির বার্ষিক ঘোষণা অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়।
| কিস্তির পরিমাণ (মাসিক) | মেয়াদ (বছর) | মোট জমা (প্রায়) | সম্ভাব্য বোনাস + মূল (আনুমানিক) |
|---|---|---|---|
| ১০০০ টাকা | ১০ বছর | ১,২০,০০০ টাকা | ২,০০,০০০ – ২,২০,০০০ টাকা |
| ২০০০ টাকা | ১৫ বছর | ৩,৬০,০০০ টাকা | ৬,৫০,০০০ – ৭,২০,০০০ টাকা |
| ৫০০০ টাকা | ২০ বছর | ১২,০০,০০০ টাকা | ২২,০০,০০০ – ২৪,০০,০০০ টাকা |
ম্যাচিউরিটির টাকা তোলার সময় আপনার পলিসি কাগজপত্র এবং পরিচয়পত্র নিয়ে নিকটস্থ শাখায় আবেদন করতে হবে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই টাকা একক কিস্তিতে (Lump Sum) প্রদান করা হয়।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স ডিপিএস-এর মেয়াদপূর্তির আগে প্রত্যাহার নীতি
জীবনে অনেক সময় জরুরি অর্থের প্রয়োজন পড়ে। সোনালী লাইফের ডিপিএস স্কিমে মেয়াদপূর্তির আগে টাকা তোলার কিছু নিয়ম রয়েছে। সাধারণত পলিসি ধরার প্রথম দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো টাকা তোলা যায় না। তবে কিছু বিশেষ শর্তে আংশিক প্রত্যাহারের সুযোগ আছে:
- চিকিৎসার প্রয়োজনে: নিজের বা পরিবারের সদস্যের জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের সার্টিফিকেট দেখিয়ে টাকা তোলা যেতে পারে।
- উচ্চশিক্ষা: নিজের সন্তানের বিদেশে বা দেশে উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন পড়লে জমানো অর্থের অংশ তোলা যায়।
- লোন: পুরো টাকা না তুলে পলিসির বিপরীতে লোন নেওয়া সবচেয়ে ভালো বিকল্প। এই লোনের সুদ সাধারণত বাজারের চেয়ে কম এবং সহজেই পাওয়া যায়।
তবে এটি মনে রাখা জরুরি যে, মেয়াদপূর্তির আগে পুরো টাকা তুলে নিলে আপনি বোনাসের একটি বড় অংশ হারাতে পারেন এবং কিছু জরিমানা দিতে হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় প্রত্যাহার এড়িয়ে চলা উচিত।
বাস্তব উদাহরণ: একজন গ্রাহকের অভিজ্ঞতা
ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মোঃ ফারুক হোসেন একজন সরকারি চাকরিজীবী। তিনি ২০১৬ সালে ১০ বছরের জন্য মাসিক ৩০০০ টাকার একটি সোনালী লাইফ ডিপিএস পলিসি কিনেছিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টাকাটি তার মেয়ের বিয়েতে ব্যবহার করা। তিনি কখনো কিস্তি বাকি রাখেননি। ২০২৬ সালের জুলাই মাসে তার পলিসি ম্যাচিউর করে। তিনি মোট জমা দিয়েছিলেন ৩,৬০,০০০ টাকা (৩০০০×১২×১০)। বোনাসসহ তিনি মোট ৬,৮২,০০০ টাকা পেয়েছেন। ফারুক বলছেন, ‘আমি যদি ব্যাংকে সাধারণ সঞ্চয় হিসাবে টাকা রাখতাম, তাহলে সুদে-আসলে এত টাকা পেতাম না। এই টাকায় আমার মেয়ের বিয়ের অনেক খরচ মিটিয়েছি।’ এই উদাহরণটি দেখায় যে ধৈর্য ও নিয়মানুবর্তিতা থাকলে ডিপিএস একটি কার্যকর বিনিয়োগ হতে পারে।
ডিপিএস বনাম অন্যান্য সঞ্চয় মাধ্যম: একটি তুলনামূলক বিশ্লেষণ
অনেকেই মনে করেন ব্যাংকের ফিক্সড ডিপোজিট (FDR) বা মিউচুয়াল ফান্ডের তুলনায় ডিপিএস কম লাভজনক। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। নিচে একটি তুলনা দেওয়া হলো:
| বৈশিষ্ট্য | সোনালী লাইফ ডিপিএস | ব্যাংক FDR | মিউচুয়াল ফান্ড |
|---|---|---|---|
| ঝুঁকি | প্রায় নেই (সরকারি) | কম | মধ্য থেকে উচ্চ |
| সুদের হার/রিটার্ন | স্থির + বোনাস (৭-১০%) | ৫-৭% (বাজারের ওপর নির্ভরশীল) | ভিন্নমুখী (লাভ-ক্ষতি দুই-ই হয়) |
| জীবনবীমা সুরক্ষা | হ্যাঁ | না | না |
| নিয়মিত সঞ্চয়ের বাধ্যবাধকতা | হ্যাঁ (শক্তিশালী) | না (একবার জমা দিয়ে শেষ) | না (এককালীন বিনিয়োগ) |
| আয়কর ছাড় | হ্যাঁ (প্রিমিয়ামে) | সীমিত (সুদে কর আছে) | না |
| লোন সুবিধা | হ্যাঁ (সুলভ সুদে) | হ্যাঁ (সুদের হার বেশি) | সাধারণত নেই |
এই তুলনা থেকে বোঝা যায়, ডিপিএস একটি ‘সেফ হ্যাভেন’ বা নিরাপদ আশ্রয়স্থল। এটি দীর্ঘমেয়াদে ধীরে ধীরে সম্পদ গড়তে সাহায্য করে, যা অনেক বিনিয়োগকারীর জন্য আদর্শ।
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স ডিপিএস-এ বিনিয়োগের আগে করণীয়
যেকোনো বিনিয়োগের মতো এখানেও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক হিসেবে আমি কিছু টিপস দিতে চাই:
- প্রয়োজনীয়তা যাচাই: ডিপিএস একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতি। যদি আগামী ৫-১০ বছরের মধ্যে আপনার টাকার প্রয়োজন হয়, তাহলে অন্য মাধ্যম বেছে নিন।
- কিস্তির পরিমাণ ঠিক করা: মাসিক কিস্তি নির্ধারণের সময় আপনার মাসিক খরচের কথা চিন্তা করুন। কিস্তি এত বেশি হবে না যাতে পরবর্তীতে তা দেওয়া কষ্টকর হয়ে যায়। ১০-১৫% আয়ের বেশি কিস্তি না নেওয়াই ভালো।
- মনোনীত ব্যক্তি (Nominee): পলিসি ফর্মে সঠিকভাবে মনোনীত ব্যক্তির নাম এবং তথ্য দিন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে আপনার অকাল প্রয়াণের ক্ষেত্রে।
- কিস্তি বাকি না রাখা: নিয়মিত কিস্তি দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কিস্তি বাকি রাখলে জরিমানা দিতে হতে পারে এবং শেষের দিকে বোনাসের হার কমে যেতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স ডিপিএস-এর ভূমিকা
২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতি ক্রমেই বৈচিত্র্যময় হচ্ছে। ডিজিটাল ব্যাংকিং, ক্রিপ্টোকারেন্সি, এবং শেয়ারবাজারের মতো মাধ্যম সামনে এলেও, সোনালী লাইফের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের পেনশন প্রকল্প এখনও মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ ভরসা। ভবিষ্যতে সন্তানের পড়াশোনার খরচ, চিকিৎসার খরচ, অথবা অবসরজীবনের আয়ের পরিকল্পনার জন্য এটি একটি নির্ভরযোগ্য হাতিয়ার।
বিমা খাতে সরকারের সম্প্রতি কিছু নীতি সংস্কার হয়েছে, যা বোনাসের হারকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। আশা করা যায়, ২০২৬ সালের শেষ দিকে ঘোষিত নতুন বোনাস হার গ্রাহকদের জন্য আরও লাভজনক হবে। তাই যারা দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত সঞ্চয় চান, তাদের জন্য সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স ডিপিএস একটি বুদ্ধিদীপ্ত পছন্দ হতে পারে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স ডিপিএস-এ মাসিক ন্যূনতম কিস্তি কত?
সাধারণত মাসিক ন্যূনতম কিস্তি ৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়। তবে এলাকা এবং পলিসির ধরণ অনুযায়ী এটি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। নিশ্চিত হওয়ার জন্য নিকটস্থ শাখায় যোগাযোগ করা ভালো।
মেয়াদপূর্তির আগে কি সম্পূর্ণ টাকা তোলা সম্ভব?
হ্যাঁ, সম্ভব তবে এটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার (Surrender) বলা হয়। এটি করলে আপনাকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের বোনাস ছাড়া পেতে পারেন এবং কোম্পানি কিছু জরিমানা আরোপ করতে পারে। তাই চেষ্টা করুন মেয়াদ শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করার।
পলিসির বিপরীতে লোন নিতে কতদিন সময় লাগে?
লোনের আবেদন জমা দেওয়ার পর সাধারণত ৫-৭ কার্যদিবসের মধ্যে অনুমোদন হয়ে যায়। লোনের পরিমাণ পলিসির জমাকৃত মূল্যের ৮০% পর্যন্ত হতে পারে। সুদের হার বর্তমানে ১০-১২% এর মধ্যে।
ডিপিএসে কি নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশিরা (প্রবাসী) আবেদন করতে পারেন?
অবশ্যই পারেন। প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাদের বৈধ পাসপোর্ট এবং জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে আবেদন করতে পারেন। কিস্তি জমা দেওয়ার জন্য অনলাইন ব্যাংকিং বা প্রবাসী ব্যাংকিং ব্যবহার করতে পারেন।
পলিসি ম্যাচিউর হলে টাকা পেতে কী কী কাগজ লাগে?
মূল পলিসি ডকুমেন্ট, জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, পাসপোর্ট সাইজের ছবি (২ কপি), এবং আয়কর রিটার্নের কপি (যদি প্রয়োজন হয়) নিয়ে নিকটস্থ শাখায় আবেদন করলেই টাকা পাওয়া যায়। টাকা সাধারণত চেক বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হয়।
সোনালী লাইফের ডিপিএসে বোনাসের হার কত?
বোনাসের হার বছরে একবার কোম্পানি ঘোষণা করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এটি গড়ে ৭% থেকে ৯% এর মধ্যে রয়েছে। তবে এটি কোম্পানির আর্থিক অবস্থা এবং সরকারী নীতির ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
এই প্রকল্পে কি কোনো কর ছাড় আছে?
হ্যাঁ, আয়কর আইন অনুযায়ী, বার্ষিক প্রিমিয়ামের একটি অংশ (সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত) করমুক্ত আয় হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে কর ছাড় পাওয়ার জন্য আপনাকে আয়কর রিটার্নে সঠিকভাবে তথ্য দিতে হবে।