ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স ২০২৬
বাংলাদেশের বিমা খাতে ইসলামী শরিয়াহ ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স একটি উল্লেখযোগ্য নাম। ২০২৬ সালে এসে এই প্রতিষ্ঠানটি তার গ্রাহকদের জন্য কী কী সেবা ও সুবিধা নিয়ে হাজির হয়েছে, তা জানা জরুরি। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, পলিসির ধরন, দাবি নিষ্পত্তির হার এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি—এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এই নিবন্ধের মূল উদ্দেশ্য।
প্রতিষ্ঠানের পটভূমি ও ইসলামী বিমার গুরুত্ব
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড একটি শরিয়াহ ভিত্তিক জীবন বিমা প্রতিষ্ঠান। এটি শুধুমাত্র একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ করে। ইসলামী বিমার মূল ভিত্তি হচ্ছে ‘তাকাফুল’, যার অর্থ হচ্ছে পারস্পরিক গ্যারান্টি বা জামানত। প্রচলিত সুদভিত্তিক বিমা থেকে এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে গ্রাহকরা একে অপরের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। প্রতিষ্ঠানটি এই নীতিমালা কঠোরভাবে মেনে চলে বলে বহু মানুষ আস্থার সাথে এখানে বিনিয়োগ করছেন।
শরিয়াহ বোর্ড ও স্বচ্ছতা
যেকোনো ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো এর শরিয়াহ বোর্ড। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্সের একটি শক্তিশালী শরিয়াহ বোর্ড রয়েছে, যারা প্রতিটি পণ্য ও বিনিয়োগ তত্ত্বাবধান করেন। বোর্ডটি নিশ্চিত করে যে, কোম্পানির সকল কার্যক্রম ইসলামী আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ। বিনিয়োগের টাকা কোনো হারাম বা সুদীভিত্তিক খাতে না যায়, সেদিকে তারা কঠোর নজর রাখে। এই স্বচ্ছতার কারণেই প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে পেরেছে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত কোম্পানিটি তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে শরিয়াহ বোর্ডের মতামত ও তদারকির স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরে আসছে।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্সের পণ্য ও সেবা
প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের চাহিদা পূরণের জন্য বেশ কিছু পণ্য নিয়ে কাজ করছে। পণ্যগুলো শুধু সুরক্ষাই দেয় না, বরং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি করে। নিচে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পলিসির বিবরণ দেওয়া হলো:
মুদ্রামূল্য সংরক্ষণ তাকাফুল (এমভিপি)
এই পলিসিটি মূলত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়ার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। গ্রাহকের বিনিয়োগ যাতে সময়ের সাথে সাথে তার প্রকৃত মূল্য হারিয়ে না ফেলে, সেদিকে নজর রাখে এই স্কিমটি। এটি একটি সঞ্চয়মুখী পলিসি, যেখানে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে গ্রাহক তার জমানো অর্থ লাভ সহ ফেরত পান। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্সের এই পলিসিটি মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত গ্রাহকদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়।
মেয়াদি তাকাফুল (টার্ম পলিসি)
যারা উচ্চ পরিমাণের সুরক্ষা চান কিন্তু কম প্রিমিয়াম দিতে চান, তাদের জন্য মেয়াদি তাকাফুল সবচেয়ে উপযুক্ত। এই পলিসির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা। পলিসি চলাকালে গ্রাহকের মৃত্যু হলে তার পরিবার পলিসির পুরো অর্থ পেয়ে থাকেন। পলিসির মেয়াদ শেষে কোনো কিছু না পাওয়ার ঝুঁকি থাকলেও, এটি সবচেয়ে কম খরচের ঝামেলামুক্ত সুরক্ষা ব্যবস্থা। ২০২৬ সালে এই পণ্যটির চাহিদা বিশেষভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিক্ষা ও বিবাহ তাকাফুল
বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করাটা প্রতিটি বাবা-মায়ের অগ্রাধিকার। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স ‘শিক্ষা তাকাফুল’ এবং ‘বিবাহ তাকাফুল’ নামে দুটি বিশেষ পণ্য বাজারে এনেছে। শিক্ষা তাকাফুল পলিসির মাধ্যমে অভিভাবকরা সন্তানের উচ্চশিক্ষার জন্য একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ জমা করতে পারেন। পলিসির মেয়াদ শেষে বা সন্তান যখন উচ্চশিক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বয়সে পৌঁছায়, তখন সেই অর্থ ফেরত পাওয়া যায়। অন্যদিকে, বিবাহ তাকাফুল কন্যাশিশুর ভবিষ্যৎ বিবাহের খরচের জন্য একটি সঞ্চয় পরিকল্পনা। এই ধরণের লক্ষ্যভিত্তিক পণ্যগুলো গ্রাহকদের কাছে খুবই কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে।
হজ ও ওমরাহ তাকাফুল
প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মুসলিম হজ ও ওমরাহ পালনের ইচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু অর্থের অভাবে অনেকের সেই স্বপ্ন পূরণ হয় না। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স এই প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে ‘হজ ও ওমরাহ তাকাফুল’ চালু করেছে। এই স্কিমের অধীনে গ্রাহকরা নির্দিষ্ট কিস্তিতে টাকা জমা দিয়ে ভবিষ্যতে হজ বা ওমরাহ পালনের জন্য প্রস্তুতি নিতে পারেন। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় প্রকল্প, যা ধর্মীয় ও আর্থিক উভয় দিক থেকেই গ্রাহককে সহায়তা করে।
প্রিমিয়াম ও দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া
যেকোনো বিমা কোম্পানির ক্ষেত্রে দাবি নিষ্পত্তির হার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স তাদের দাবি নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। গ্রাহকরা অনলাইনে বা সরাসরি শাখায় গিয়ে দাবি করতে পারেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর যথাসম্ভব কম সময়ের মধ্যে দাবি নিষ্পত্তি করা হয়।
| পলিসির ধরন | গড় প্রিমিয়াম (বার্ষিক) | দাবি নিষ্পত্তির গড় সময় | গ্রাহক সন্তুষ্টি হার (প্রায়) |
|---|---|---|---|
| মুদ্রামূল্য সংরক্ষণ তাকাফুল | ১৫,০০০ – ৫০,০০০ টাকা | ১৫-২০ কার্যদিবস | ৯২% |
| মেয়াদি তাকাফুল | ৫,০০০ – ২০,০০০ টাকা | ১০-১৫ কার্যদিবস | ৯৫% |
| শিক্ষা তাকাফুল | ১২,০০০ – ৪০,০০০ টাকা | ১২-১৮ কার্যদিবস | ৯০% |
| হজ ও ওমরাহ তাকাফুল | ১০,০০০ – ৩০,০০০ টাকা | ২০-২৫ কার্যদিবস | ৮৮% |
উপরের টেবিল থেকে বোঝা যায়, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স দাবি নিষ্পত্তিতে মোটামুটি ভালো সুনাম অর্জন করেছে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে সময়সীমা একটু বেশি লাগতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে গ্রাহকরা সন্তুষ্ট। কোম্পানিটি দাবি প্রত্যাখ্যানের হারও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেষ্ট। একটি সৎ ও স্বচ্ছ দাবি প্রক্রিয়া বজায় রাখার জন্য তাদের একটি ডেডিকেটেড ক্লেম টিম কাজ করে।
বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা ও মুনাফা বিতরণ
ইসলামী বিমা কোম্পানি হওয়ায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স তাদের বিনিয়োগ সম্পূর্ণরূপে শরিয়াহ সম্মত খাতে পরিচালনা করে। তারা সুদভিত্তিক সিকিউরিটিজ বা নিষিদ্ধ ব্যবসায় বিনিয়োগ করে না। বিনিয়োগের প্রধান ক্ষেত্রগুলো হলো:
- সরকারি ইসলামী বন্ড (সুকুক)
- শরিয়াহ সম্মত শেয়ারবাজার
- রিয়েল এস্টেট ও সম্পত্তি খাতে বিনিয়োগ
- হালাল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে অংশীদারিত্ব (মুদারাবা)
প্রতিবছর কোম্পানিটি তাদের অর্জিত মুনাফা গ্রাহকদের মধ্যে বণ্টন করে। এই মুনাফা সম্পূর্ণরূপে শরিয়াহ বোর্ডের তত্ত্বাবধানে গণনা ও বিতরণ করা হয়। গ্রাহকরা তাদের পলিসির মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পান। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, কোম্পানিটি তাদের স্কিমগুলোর ওপর গড়ে ৮% থেকে ১২% হারে মুনাফা প্রদান করছে, যা বর্তমান বাজার অর্থনীতিতে একটি গ্রহণযোগ্য হার।
গ্রাহক সেবা ও ডিজিটালাইজেশন
বর্তমান যুগ ডিজিটালের। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্সও এই ধারা অনুসরণ করে তাদের গ্রাহকসেবাকে অনলাইনে নিয়ে এসেছে। গ্রাহকরা এখন ঘরে বসেই তাদের পলিসির তথ্য দেখতে পারেন, প্রিমিয়াম জমা দিতে পারেন এবং দাবি ফরম পূরণ করতে পারেন। কোম্পানির একটি মোবাইল অ্যাপ রয়েছে, যার মাধ্যমে সবকিছু খুব সহজে করা যায়। এছাড়া, দেশের প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে কোম্পানির শাখা অফিস রয়েছে, যেখানে গ্রাহকরা সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।
গ্রাহক সহায়তা কেন্দ্র
কোম্পানির একটি চব্বিশ ঘন্টার কল সেন্টার রয়েছে, যা গ্রাহকদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত। ই-মেইল, ওয়েবসাইট লাইভ চ্যাট এবং সামাজিক মাধ্যমেও তারা সক্রিয়। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের রিপোর্ট অনুযায়ী, ৯৫% কল এবং ই-মেইল নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমাধান করা হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহক সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়।
প্রতিযোগিতামূলক বাজারে অবস্থান
বাংলাদেশে ইসলামী বিমা খাতে বহু প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের সাফল্যের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে:
- শরিয়াহ মেনে চলা: কঠোরভাবে ইসলামী শরিয়াহ মেনে চলার কারণে ধর্মপ্রাণ মুসলিম গ্রাহকরা এখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হন।
- পণ্যের বৈচিত্র্য: বিভিন্ন চাহিদা মেটানোর জন্য বিভিন্ন পলিসি থাকায় গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পলিসি বাছাই করতে পারেন।
- স্বচ্ছতা: কোম্পানির আর্থিক লেনদেন ও মুনাফা বিতরণ প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বচ্ছ।
- প্রযুক্তি ব্যবহার: ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেবা প্রদান গ্রাহকদের জন্য সুবিধাজনক হয়েছে।
তবে, কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বাজারে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের তুলনায় ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্সকে আরও বেশি প্রচারণা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যা কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে, ২০২৬ সালে এসে কোম্পানিটি তার অবস্থান সুসংহত করেছে।
ব্যবহারকারীর বাস্তব অভিজ্ঞতা
একটি বাস্তব উদাহরণ দেওয়া যাক। মো. জহিরুল ইসলাম একজন ছোট ব্যবসায়ী। তিনি ২০১৮ সালে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স থেকে একটি শিক্ষা তাকাফুল পলিসি কিনেছিলেন তার মেয়ের জন্য। ২০২৪ সালে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তার চিকিৎসায় প্রচুর অর্থ খরচ হয়ে যায়। এই সংকটময় মুহূর্তে তিনি তার পলিসি ল্যাপস হওয়ার ভয়ে ছিলেন। কিন্তু কোম্পানির “গ্রেস পিরিয়ড” নীতি ও উদার মনোভাবের কারণে তিনি সময়মতো প্রিমিয়াম জমা দিতে সমর্থ হন। পরে সুস্থ হয়ে তিনি পলিসিটি চালু রাখেন। তিনি বলেছেন, “যখন আমি অসুস্থ ছিলাম, তখন কোম্পানির এজেন্ট নিজেই আমার বাড়িতে এসে প্রিমিয়াম জমা নেন এবং আমাকে আশ্বস্ত করেন। এই আন্তরিকতা আমাকে অভিভূত করেছে।”
আরেকটি ঘটনা হলো, রাজশাহীর একটি পরিবার তাদের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারানোর পর ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স থেকে মেয়াদি তাকাফুলের পুরো অর্থ পেয়েছিলেন। তারা জানিয়েছেন, কাগজপত্র জমা দেওয়ার ১২ কার্যদিবসের মধ্যে টাকা তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে চলে আসে। এই ধরণের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা প্রতিষ্ঠানটির সুনাম দিন দিন বাড়িয়ে তুলছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্প্রসারণ
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স ২০২৬ সালের জন্য বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তারা দেশের প্রতিটি উপজেলায় তাদের সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এছাড়া, তারা নতুন কিছু পণ্য বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেমন “চিকিৎসা তাকাফুল” যা হাসপাতালে ভর্তি ও গুরুতর অসুস্থতার জন্য সুরক্ষা দেবে। কোম্পানিটি আরও স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল সিস্টেম তৈরি করছে, যাতে দাবি নিষ্পত্তি আরও দ্রুত ও সহজ হয়।
তাদের নির্বাহী কর্মকর্তাদের মতে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স শুধু একটি বিমা কোম্পানি নয়; এটি একটি সামাজিক উদ্যোগ। তারা ইসলামী অর্থনীতির নীতি মেনে মানুষের জীবনকে সুরক্ষিত করতে চায়। ভবিষ্যতে তারা স্টার্টআপ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও বিশেষ বীমা পরিকল্পনা নিয়ে আসবে বলে জানিয়েছেন।
উপসংহার ও পরামর্শ
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স বাংলাদেশের ইসলামী বিমা খাতে একটি বিশ্বস্ত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তাদের পণ্য বৈচিত্র্য, গ্রাহক সেবা ও ইসলামী নীতির প্রতি অঙ্গীকার তাদের অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে আলাদা করেছে। ২০২৬ সালে তাদের সেবার মান আরও উন্নত হয়েছে এবং তারা ডিজিটাল মাধ্যমে গ্রাহকদের সাথে যুক্ত হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে। যারা সুরক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ বজায় রাখতে চান, তাদের জন্য ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স একটি সঠিক পছন্দ হতে পারে।
তবে, যেকোনো বীমা পলিসি কেনার আগে গ্রাহকদের নিজেদের প্রয়োজন, আর্থিক সামর্থ্য এবং পলিসির শর্তাবলী ভালোভাবে বোঝা উচিত। এজেন্টের মুখের কথার ওপর না গিয়ে সরাসরি কোম্পানির ওয়েবসাইট বা শাখা অফিস থেকে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। তাহলে ভবিষ্যতে কোনো ঝামেলা ছাড়াই পলিসির সম্পূর্ণ সুবিধা পাওয়া যাবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
প্রশ্ন: ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কি সম্পূর্ণ ইসলামী শরিয়াহ মেনে চলে?
উত্তর: হ্যাঁ, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স সম্পূর্ণরূপে ইসলামী শরিয়াহ মেনে চলে। তাদের একটি শক্তিশালী শরিয়াহ বোর্ড আছে যা সকল পণ্য ও বিনিয়োগের তদারকি করে। কোম্পানির কোনো কার্যক্রম সুদভিত্তিক বা নিষিদ্ধ খাতে পরিচালিত হয় না।
প্রশ্ন: এই কোম্পানির পলিসি থেকে আমি কীভাবে মুনাফা পাব?
উত্তর: পলিসির মেয়াদ শেষে বা নির্ধারিত মেয়াদে কোম্পানি তার অর্জিত মুনাফা শরিয়াহ নীতি অনুযায়ী গ্রাহকদের মধ্যে বণ্টন করে। এই মুনাফা সরাসরি আপনার পলিসি অ্যাকাউন্টে জমা হয় এবং পলিসি ম্যাচিওর হলে আপনি মূল টাকা ও মুনাফা একসাথে পেয়ে যান।
প্রশ্ন: ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্সে দাবি করতে কতদিন সময় লাগে?
উত্তর: সাধারণত পলিসির ধরণ ও কাগজপত্রের ওপর নির্ভর করে দাবি নিষ্পত্তি হতে ১০ থেকে ২৫ কার্যদিবস পর্যন্ত সময় লাগে। সব ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার পর কোম্পানি যথাসম্ভব দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
প্রশ্ন: আমি কীভাবে প্রিমিয়াম জমা দিতে পারি?
উত্তর: আপনি অনলাইনে কোম্পানির ওয়েবসাইট বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রিমিয়াম জমা দিতে পারেন। এছাড়া কোম্পানির কোন শাখা অফিসে গিয়ে নগদ বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমেও জমা দেওয়া যায়।
প্রশ্ন: যদি আমি প্রিমিয়াম দিতে ব্যর্থ হই তাহলে কী হবে?
উত্তর: নির্ধারিত সময়ের পর একটি “গ্রেস পিরিয়ড” থাকে (সাধারণত ৩০ দিন) এই সময়ের মধ্যে প্রিমিয়াম জমা দিতে পারেন। এরপরও যদি দিতে ব্যর্থ হন, তাহলে পলিসি ল্যাপস হয়ে যেতে পারে। তবে কিছু পলিসিতে বিশেষ বিধান থাকে, তাই এজেন্টের সাথে যোগাযোগ করা ভালো।
প্রশ্ন: ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্স কি অনলাইনে পলিসি কেনার সুযোগ দেয়?
উত্তর: হ্যাঁ, কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে আপনি সরাসরি পলিসি কিনতে পারেন। সেখানে একটি অনলাইন কোটা সিস্টেম আছে যার মাধ্যমে আপনি প্রিমিয়াম ক্যালকুলেট করে পলিসি সিলেক্ট করে আবেদন করতে পারবেন।
প্রশ্ন: এই কোম্পানির পলিসি কি অন্যান্য কোম্পানির তুলনায় বেশি সুবিধাজনক?
উত্তর: সুবিধা নির্ভর করে আপনার ব্যক্তিগত চাহিদার ওপর। ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্সুরেন্সের পণ্যগুলো সম্পূর্ণ শরিয়াহ ভিত্তিক হওয়ায় এটি ধর্মপ্রাণ গ্রাহকদের জন্য অধিক উপযোগী। এছাড়া তাদের দাবি নিষ্পত্তি ও গ্রাহক সেবার মানও প্রশংসনীয়। তবে তুলনামূলক বিশ্লেষণের জন্য অন্যান্য কোম্পানির পলিসির সাথে মিলিয়ে দেখতে পারেন।